
গর্ভাবস্থায় কি করণীয় এবং কি নয় সে তালিকাটা আকারে কিছুটা বড়ই হতে পারে। আপনার পেটের আকার সপ্তাহে সপ্তাহে বাড়তে থাকলে, নিজের উদ্বেগের তালিকায় ঘুমের ভঙ্গীও যোগ করতে পারেন। গর্ভাবস্থা চলাকালীন আপনি চিৎ হয়ে শুতে অভ্যস্ত হলে, এখন থেকে কোনও নতুন ভঙ্গীতে শোয়া অভ্যাস করুন, কারণ 20 সপ্তাহের পরে গর্ভবতী মহিলাদের চিৎ হয়ে শুতে বারণ করা হয়। গর্ভাবস্থায় চিৎ হয়ে শুলে, আপনার মেরুদণ্ড সংলগ্ন ভেনা কাভা নামের অন্যতম প্রধান রক্তনালীর ওপর আপনার জরায়ুর চাপ পড়ে সংকুচিত করতে পারে। অনুমান করা হয় ভেনা কাভা সংকুচিত হয়ে আপনার শিশুর রক্ত প্রবাহ ব্যাহত করতে পারে। তাই, সাধারণত, বেশিরভাগ ডাক্তারই পরামর্শ দেন, ঘুমের সময় রক্তনালীর ওপর যাতে চাপ না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখার।
ঘুমের সময় আপনার শরীর নিজেকে মেরামত করে, আবার পরের দিনের জন্য প্রস্তুত করে রাখে। ঘুমের সময়েই আপনার মস্তিষ্ক স্মৃতি তৈরি করে এবং রক্তনালীগুলি নিজেদের মেরামত করে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ, প্রয়োজনীয় রক্তনালীগুলি শিশুকে সাপোর্ট করার জন্য অতিরিক্ত রক্ত প্রবাহের চাপ বহন করে। এছাড়াও, গর্ভাবস্থায় আপনার বিশেষ সাপোর্টের জন্য ঘুম আপনার ইমিউন সিস্টেমকে সুস্থ রাখে। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরে ইনসুলিনের প্রতিক্রিয়া এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, মাত্রা বাড়লে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সন্তানসম্ভাবনাকালে আপনার বাম পাশ ফিরে ঘুমানোই ভালো, যদিও ডানদিকে পাশ ফিরে শোওয়াতেও সমস্যা নেই। স্বাভাবিক কারণবশতই, প্রথম ত্রৈমাসিকের পরে আপনার পক্ষে উপুড় হয়ে শোওয়া অসম্ভব। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞই গর্ভাবস্থায় সারা রাত চিৎ হয়ে না শোওয়ার পরামর্শ দেন। তবে, কিছু বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন গর্ভবতী মহিলারা খুব বেশি চিন্তা না করে যে কোনও আরামদায়ক ভঙ্গীতে ঘুমাতে পারেন, কারণ ঘুম আপনার এবং আপনার সন্তানের স্বাস্থ্যের পক্ষে অপরিহার্য।
পাশ ফিরে ঘুমোনোর সময় শরীরে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য সাহায্যের প্রয়োজন হলে, একাধিক বালিশ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশের সাপোর্ট রাখার চেষ্টা করুন। গর্ভাবস্থার জন্য নির্দিষ্ট বালিশ ব্যবহার করতে পারেন বা নিজের সাপোর্টের জন্য একাধিক সাধারণ বালিশও ব্যবহার করতে পারেন। যেমন, একটি বালিশ দুই হাঁটুর মধ্যে এবং অন্যটি নিজের নিতম্বের নীচে রাখতে পারেন, যাতে পাশ ফিরে শোওয়ার সময় খুব সহজে নিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন। এছাড়াও পিঠের পিছনে বা সামনে নিজের পূর্ণাঙ্গ আকৃতির বডি পিলো রেখে ঘুমানোর চেষ্টা করতে পারেন, অথবা তেকোনা ওয়েজ-শেপড বালিশ পাশে বা বুকের নীচে রেখে পরীক্ষা করতে পারেন।
গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের সব থেকে সেরা পাশ ফিরে ঘুমোনো। কিছু ডাক্তার ডান দিকের বদলে বাম দিকে ফিরে শোওয়ার পরামর্শ দেন কারণ ভেনা কাভা আপনার মেরুদণ্ডের ডানদিকে অবস্থিত আর আপনি বাম পাশ ফিরে ঘুমোলে শিশুর দেহে অবাধে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে। তা সত্বেও আপনার নিজের পক্ষে সবথেকে আরামদায়ক শোওয়ার ভঙ্গী বেছে নিতে হবে। নিজের এবং সন্তানের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে সর্বদা "ভালো দিক" না ভেবে স্বাচ্ছন্দ্যের দিক বেছে নিন।
আমি ভাবছিলাম গর্ভাবস্থায় কখন উপুড় হয়ে শোওয়া বন্ধ করা উচিত। আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন, অন্তত বেশ কিছুদিন। আপনার গর্ভাবস্থা 16 থেকে 18 সপ্তাহ না হওয়া পর্যন্ত উপুড় হয়ে শুলে কোনও সমস্যা নেই। এই পর্যায়ে আস্তে আস্তে আপনার পেটের বাম্প বাড়তে থাকে, এবং আপনা থেকেই উপুড় হয়ে শোওয়ার ইচ্ছে চলে যায় । আর পেট বড় হতে শুরু করলে, বেশিরভাগ মহিলাদের পক্ষেই উপুড় হয়ে শোওয়া অস্বস্তিকর হয়ে পড়ে। কিন্তু উপুড় হয়ে না শোওয়া, শুধু ভালো না লাগার কারণে নয়; খানিকটা সুরক্ষার স্বার্থেও উপুড় হয়ে শুতে নেই। পেটের ওপর চাপ দিয়ে শুলে, চিৎ হয়ে শোওয়ার মতোই বিরূপ প্রভাব ফেলে। এছাড়াও, গর্ভাবস্থায় উপুড় হয়ে ঘুমালে পেটের ভিতরে বাম্প সরে যেতে পারে এবং অ্যাওর্টা এবং IVC (ইনফিরিয়র ভেনা ক্যাভা) -এর ওপর চাপ পড়তে পারে।
প্রথম ত্রৈমাসিক চলাকালীন চিৎ হয়ে ঘুমোনো নিরাপদ। তবে, গর্ভাবস্থার মাঝামাঝি সময়ে আপনার জরায়ু ভারী হয়ে যায় বলে, শোওয়ার অন্য ভঙ্গী বেছে নেওয়াই ভালো। এছাড়াও, গর্ভাবস্থার প্রথম 15 থেকে 20 সপ্তাহের মধ্যে, আপনি চিৎ হয়ে ঘুমোলে রক্ত প্রবাহ চলার পক্ষে জরায়ু আকারে যথেষ্ট বড় হয়ে যায়। যার ফলে ইনফিরিয়র ভেনা কাভা সংকুচিত হয়ে পড়ে, এই বড় শিরাটি মেরুদণ্ডের ডান দিকে থাকে এবং দেহের নিম্ন এবং মাঝখানের অংশ থেকে অক্সিজেনহীন রক্ত হার্টে নিয়ে যায়। চিৎ হয়ে শোওয়ার ফলে অ্যাওর্টা বা মহাধমনীও সংকুচিত হতে পারে, যার ফলে আপনার শরীর থেকে প্লাসেন্টায় প্রধান রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলস্বরূপ, গর্ভবতী মহিলারা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট অনুভব করে বা চিৎ হয়ে শোওয়ার কারণে হার্টবিট বেড়ে যাওয়ায় জেগে উঠতে পারে , আর তার ফলে হার্টে রক্ত প্রবাহ কমে যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় চিৎ হয়ে শোওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সমস্যাও আছে, যেমন পিঠে ব্যথা, হেমোরয়েড, হজমের সমস্যা এবং দুর্বল রক্ত সঞ্চালন।
অতএব, পাশ ফিরে রাত কাটানোই আপনার ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ঘুমোনোর সেরা ভঙ্গী, বিশেষ করে বাম দিকে পাশ ফিরে, কারণ রক্ত প্রবাহ অপ্টিমাইজ করার জন্য জরায়ুর ওজন ডান দিক থেকে সরিয়ে নিলে মায়ের পক্ষে আরামদায়ক। ডানদিকে পাশ ফিরে ঘুমোনো আপনার পক্ষে বাম দিকের মতো অতটা নিরাপদ নয় কারণ এভাবে শুলে IVC সংকুচিত করতে পারে, তবে কখনো কখনো বিকল্প হিসেবে বালিশ ব্যবহার করে জরায়ু যাতে ডানদিকে সরে না যায় সেবিষয়ে খেয়াল রাখা যায়।
তবে, সারাজীবন উপুড় হয়ে শুয়ে অভ্যস্ত থাকলে আপনার পক্ষে বাম দিকে ফিরে শোওয়ার অভ্যাস করা মুশকিল হতে পারে। ডাক্তাররা এই কারণেই গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে গর্ভাবস্থার জন্য নির্দিষ্ট বডি পিলো ব্যবহার করার পরামর্শ দেন, যাতে কি করে বিভিন্ন ভঙ্গীতে বালিশটি রাখতে পারেন এবং কীভাবে বালিশ আপনার শরীরে সাপোর্ট দেবে, সব কিছু অগ্রিম জানতে পারেন। ঘুমের সময় নিতম্ব বা পায়ের ব্যথা কমাতেও নিজের পায়ের নীচে বালিশ রাখতে পারেন। আরামে এপাশ ওপাশ করার জন্যেও আপনি বালিশ ব্যবহার করতে পারেন। 45-ডিগ্রি কোণ করে চিৎ হয়ে শুলে কম্প্রেশন এড়ানো যায়।
সারা রাত ধরে ঘুমের মধ্যে শোওয়ার ভঙ্গী পরিবর্তন করা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। সুতরাং গর্ভাবস্থা চলাকালীন চিৎ অথবা উপুড় অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে উঠলে, আতঙ্কিত হবেন না; ভয়ের কিছু নেই। ঘুমের মধ্যে শরীরের অসামঞ্জস্যজনিত অস্বস্তি এড়াতেই ঘুম ভেঙে গেছে, অর্থাৎ আপনি সম্ভবত অনেকক্ষণ সেই ভঙ্গীতে ছিলেন না। যাইহোক, তৃতীয় ত্রৈমাসিক চলাকালীন চিৎ হয়ে শুলে কিন্তু অবশ্যই রক্ত প্রবাহ ব্যাহত হবে এবং খুব দ্রুত আপনার শরীরে অস্বস্তি বোধ হবে, আর তাই আপনি জেগে উঠবেন। সুতরাং নিজের সন্তানের শরীরে রক্ত প্রবাহের কথা মাথায় রেখে বেশিক্ষণ চিৎ হয়ে শোবেন না। চিৎ হয়ে, উপুড় হয়ে বা ডান পাশ ফিরে শুলে কখন কিভাবে কতবার আপনার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে সেদিকে খেয়াল রাখতে বলুন নিজের সঙ্গীকে।
28 সপ্তাহের গর্ভাবস্থা নাগাদ, জরায়ু ভারী হয়ে গেলে আপনার পক্ষে চিৎ হয়ে শোওয়া সমস্যাজনক হয়ে পড়ে। আপনার জরায়ুর ভেতরে যা যা আছে, অর্থাৎ আপনার সন্তান, প্লাসেন্টা এবং অ্যামনিয়োটিক ফ্লুইড সবকিছু নিয়ে, আপনার গর্ভাবস্থাকালে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ওজনের প্রায় এক তৃতীয়াংশ। আর আপনি চিৎ হয়ে শুলে এই ওজন এসে পড়ে IVC-এর উপর। IVC সংকুচিত হলে শিশুর জন্মের সময় কম ওজন, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া, ভ্রূণের বৃদ্ধি হ্রাস পাওয়া এমনকি মৃতশিশুর প্রসব অবধি হতে পারে।
গর্ভাবস্থার শেষ দিকে চিৎ হয়ে শোওয়া সংক্রান্ত কিছু ঝুঁকির কথা মাথায় রাখতে হবে। কিছু ঝুঁকির কথা নিচে বলা হল:
গর্ভাবস্থায় ভেনা কাভার উপর অত্যধিক চাপ প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার পাশাপাশি, মাথাব্যথা বা পেটে ব্যথা হতে পারে, যার ফলে প্রি-টার্ম ডেলিভারি বা মৃতশিশু প্রসব হতে পারে।
গর্ভাবস্থার 30 সপ্তাহ অতিক্রান্ত হওয়ার পরে, শেষের দিকে, চিৎ হয়ে শুলে ইনফিরিয়র ভেনা কাভা সংকুচিত হয়ে রক্তের প্রবাহ সীমাবদ্ধ করে এবং ভ্রূণের বৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে। যার ফলে জন্মকালীন ওজন কম হতে পারে। জন্মের সময় শিশুর ওজন কম হলে শ্বাসকষ্ট এবং জন্ডিসের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মহিলারা 28 সপ্তাহ গর্ভধারণের পরে চিৎ হয়ে শুলে তাদের মৃত শিশু প্রসবের ঝুঁকি তিনগুণ বেড়ে যায়। চিৎ হয়ে শুলে ভ্রূণের বৃদ্ধি হ্রাস পাওয়া এবং ভ্রূণের ওপর চাপ পড়া, এই দুই কারণেই মূলত মৃতশিশু প্রসবের ঝুঁকি তৈরি হয়। এই কারণদুটির পাশাপাশি কোনও কোমর্বিডিটি থাকলে মৃতশিশু প্রসবের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
28 সপ্তাহের গর্ভধারণের পরে, চিৎ হয়ে ঘুমোনো আর নিরাপদ নয়, তবে নিরাপদে ঘুমানোর জন্য আরও কয়েকটি আরামদায়ক ভঙ্গী আছে।
উপুড় হয়ে শুলে কোনো বড় রক্তনালীতে চাপ পড়ে না এবং শিশুর জন্য নিরাপদ বলে মনে করা হয়। ডোনাট বালিশ ব্যবহার করলে এই ভঙ্গীতে শোওয়া আপনার পক্ষে আরামদায়ক হতে পারে।
চিৎ অবস্থায় আপনার সবচেয়ে ভাল ঘুম হলে, অল্প কাত হয়ে প্রায় চিৎ হয়ে শোওয়া, আপনার তৃতীয় ত্রৈমাসিকের পক্ষে আরামদায়ক বিকল্প হতে পারে। চিকিৎসকরা গর্ভাবস্থায় ঘুমের জন্য আড়াআড়ি ডেকিউবিটাস ভঙ্গীতে শোওয়ার কথা বলেন। এই ভঙ্গীটি আপনার পিঠের চিৎ অবস্থা এবং সম্পূর্ণভাবে পাশ ফিরে শোওয়ার মাঝামাঝি অবস্থান। এই ভঙ্গীতে শুতে সাহায্য করার জন্য, বালিশ এবং পাশবালিশের সাপোর্ট রাখলে আপনি ঘুমানোর সময় এভাবেই থাকতে পারবেন। আপনি বাম বা ডান দুই পাশেই আড়াআড়ি ডেকিউবিটাস ভঙ্গীতে শুতে পারেন। যাইহোক, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পুরোপুরি পাশ ফিরে বা সম্পূর্ণরূপে চিৎ হয়ে না থাকা।
গর্ভধারণের 28 সপ্তাহ পর বাম পাশে ফিরে ঘুমোনো নিরাপদ কারণ আপনার ডান পাশে ফিরে শুলে, চিৎ হয়ে শোওয়ার মতোই ঝুঁকি থাকতে পারে।
You may also like: গর্ভাবতী মায়েদের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের জন্য ১০ টি গুরুত্বপূর্ন টিপস
গর্ভাবস্থার প্রথম দুই ত্রৈমাসিকে চিৎ হয়ে শোওয়া নিরাপদ। তবে, তৃতীয় ত্রৈমাসিকের সময়, চিৎ হয়ে না ঘুমোনোই ভাল কারণ তাতে আপনার এবং শিশুর উভয়ের পক্ষে কিছু ঝুঁকি থেকে যেতে পারে। চিৎ হয়ে শোওয়া অবস্থায় ঘুম ভেঙে জেগে উঠলে সাথে সাথে শোওয়ার ভঙ্গী পরিবর্তন করুন। গর্ভাবস্থার জন্য নির্দিষ্ট বালিশও ব্যবহার করতে পারেন এবং সেটি নিজের পিঠের পিছনে রাখতে পারেন যাতে বেখেয়ালেও আপনি ঐ ভঙ্গীতে না যেতে পারেন। এছাড়াও, গর্ভাবস্থায় ঘুমের ভঙ্গী সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন বা দুশ্চিন্তা থাকলে নিজের ডাক্তারের সাথে কথা বলা ভাল।
Sleep Position in Pregnancy in Bengali, How to lay down during Pregnancy in Bengali, Is it safe to Sleep on your back during Pregnancy in Bengali, Can I sleep on my back while Pregnant in Bengali, How Long Can You Lay On Your Back When Pregnant in Tamil, How Long Can You Lay On Your Back When Pregnant in Telugu
Yes
No

















amr report ta ki thik ase?
amr report ta ki thik ase?
নয় সপ্তাহে এ কৌষটি কাঠিন হলে করণীয় কি
৯ মাসে কি বাচ্চা কম নড়াছড়া করে? জেনে থাকলে জানাবেন plz...
অবশেষে ছেলে সন্তানের মা হলাম
Your body needs extra nutrition this trimester - these can help.





This content is for informational purposes only and should not replace professional medical advice. Consult with a physician or other health care professional if you have any concerns or questions about your health. If you rely on the information provided here, you do so solely at your own risk.

Mylo wins Forbes D2C Disruptor award

Mylo wins The Economic Times Promising Brands 2022
Baby Carrier | Baby Soap | Baby Wipes | Stretch Marks Cream | Baby Cream | Baby Shampoo | Baby Massage Oil | Baby Hair Oil | Stretch Marks Oil | Baby Body Wash | Baby Powder | Baby Lotion | Diaper Rash Cream | Newborn Diapers | Teether | Baby Kajal | Baby Diapers Pants | Cloth Diapers | Laundry Detergent | Lactation Granules |