
সারাংশ



শিশুর জন্ম বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসে, বিশেষ করে সেই শিশু যদি পরিবারের প্রথম সন্তান হয় তাহলে আনন্দের মাত্রা অন্য পর্যায়ে পৌঁছে যায়। শিশুর জন্মের সময়ে বা জন্মের আগে যেমন কিছু আচার বিচার বা প্রথা বাঙালি সমাজে পালন করা হয় তেমনি শিশুর জন্মের পরেও কিছু আচার-বিচার বাংলা সমাজে প্রাধান্য পায়।
হিন্দু মুসলিম উভয়ের ক্ষেত্রেই শিশুর জন্মের পর ষষ্ঠ রাত্রি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মনে করা হয়। হিন্দুদের ক্ষেত্রে এই দিনটি সরস্বতী দিন। বাড়ির বড়রা বিশ্বাস করেন যে ওই রাতে ভগবান ওই সদ্য জন্মানো শিশুটির ভাগ্য নিরূপণ করে লিপিবদ্ধ করেন। এর সঙ্গে এও বলা হয় যে এই রাত্রের পরে ভগবানের ক্ষেত্রেও ওই লিপিবদ্ধ ভাগ্যকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এই আচারটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হিন্দুরা একটি কুলোয় আমের শাখা, মধু, ঘি, জবা ফুল, ঘাস, দুধ, খোসা বিহীন চাল, ধান, সোনা-রুপা এবং দস্তানা মিশ্রিত আংটি, কলম, এবং কালি প্রভৃতি রাখেন। যদিও এ প্রথা বাঙালি সমাজের তাও ধর্ম অনুযায়ী এই দিনটি মুসলমানদের ক্ষেত্রে আবার অশুভ। তারা মনে করেন এই রাত্রিতে দুষ্টু আত্মারা খুব সক্রিয় হয়ে ওঠে শিশুটিকে মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য। তাই মা-সহ পরিবার বর্গের অন্যান্য আত্মীয় পরিজন এর আত্মীয় পরিজন জেগে থাকে এবং শিশুকে কোলে রাখে। মজার কথা এই যে, হিন্দু এবং মুসলিম উভয়ের ক্ষেত্রেই ধনাত্মক বা ঋণাত্মক শক্তির জন্য বা বিরুদ্ধে সাত দিন পর্যন্ত সারারাত বাতি জ্বালিয়ে রাখা হয়।
জন্মের সপ্তম চতুর্দশ তম বা একবিংশতম দিনে আকিকা নামক অনুষ্ঠানটি পালন করা হয় নামকরণের উদ্দেশ্যে। শিশু কন্যার জন্য একটি এবং শিশু পুত্রের জন্য দুটি ছাগল আল্লাহর নামে উৎসর্গ করা হয়। অন্যদিকে দশম দিনটি হিন্দুদের ক্ষেত্রে নামকরণের অনুষ্ঠান বা পূজা-পর্ব দিয়ে পার করা হয়। এই দিন শিশুর দুটি নাম রাখা হয় একটি সব সময় ব্যবহারের জন্য এবং অন্যটি জন্ম লগ্নে নক্ষত্রপুঞ্জের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে। মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা আবার সপ্তম দিনে বাচ্চার চুল কামিয়ে দেয় এবং চুলের ওজনের সমান ওজনের রুপা বা সোনার মূল্য হিসেবে যত টাকা আসে সেই অর্থ গরিবদের দান করেন। কামানো চুল মাটিতে পুঁতে ফেলা হয় বা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা আবার দুবার মাথা কামানোয় বিশ্বাসী প্রথমবার সপ্তম অথবা নবম দিবসে এবং পরে ৩০ তম দিবসে। বলা হয় যে, আঁতুরের চুল রাখতে নেই তাই তা কামিয়ে ফেলা হয়
শিশুর জন্ম আনন্দের হলেও হিন্দু এবং মুসলিম উভয়ের ক্ষেত্রেই শিশুর জন্ম কলুষিত এবং এই কলুষতা দূরীকরণের জন্য হিন্দুরা নাপিত বা দাই এর ওপর নির্ভর করে। ধর্ম অনুযায়ী বিভিন্ন গোষ্ঠী বা শ্রেণীর ক্ষেত্রে এই কলুষতা বিভিন্ন সময়ের জন্য লাগু হয়। যেমন ব্রাহ্মণদের ক্ষেত্রে এটি এগারো দিন এবং শুদ্রদের ক্ষেত্রে এটি ৩০ দিন থাকে। অন্যদিকে একজন মুসলমান মহিলার ক্ষেত্রে মহিলাকে ততক্ষণ অপবিত্র ধরা হয় যতক্ষণ প্রসব পরবর্তী রক্ত স্রাব তার চলতে থাকে, যা সাধারণত ৪০ দিন পর্যন্ত চলে। সদ্য মা সে যে ধর্মেরই হোক না কেন সে রতিক্রিয়া, ধর্ম কর্ম পালন ইত্যাদি থেকে বিরত থাকে এই অপবিত্র অবস্থায়। যেহেতু খাদ্য এক প্রকারের দেবীর স্থান পেয়েছে তাই এই সময়ে শস্য গোলা, হাঁস মুরগির পেড়ে রাখার ডিম, বা গরুর দুধ দোয়ানো থেকেও সদ্য মা হওয়া মহিলাকে বিরত থাকতে হয়। শুদ্ধাচারের অনুষ্ঠান ব্রাহ্মণ পুরোহিত দ্বারা পরিচালিত হয় এবং সেখানে শিশুর নখ এবং চুল কাটা হয়। স্নানের পরে মা এবং শিশু নতুন কাপড় পড়ে। ইতিমধ্যে তারা যা কিছু ব্যবহার করেছে সেই সব বস্তুই ফেলে দেওয়া হয়। স্নানের পর মাকে পঞ্চগব্য যা কিনা পাঁচটি মৌলিক পদার্থ যেমন গোচনা, গঙ্গা জল, দূধ, মধু, ঘি ইত্যাদি খাওয়ানো হয় এবং তারপরে পঞ্চব্যঞ্জন এর খাবার তাকে দেওয়া হয়। এই কলুষতা চলাকালীন মা এবং বাচ্চা আঁতুড়ঘরে থাকে এবং সূর্য্যারঘ্য পূজা শেষ হবার পরেই সে আঁতুড়ঘড় থেকে বের হতে পারে।
শিশুর জন্ম হিন্দু সম্প্রদায়ে তার সব আত্মীয়দের কে দূষিত করে এবং দূষণমুক্ত হওয়ার আগে অবধি তারা মন্দিরে বা শুভ কাজে যেতে পারেন না। মুসলিমদের ক্ষেত্রে একমাত্র মা ছাড়া পরিবারের কেউই অপবিত্র হয়না। বাচ্চাকে দুষ্টু আত্মা থেকে দূরে রাখার জন্য তিন থেকে সাত দিন আতুর ঘরে থাকা উচিত। মায়ের ওপর দুষ্টু আত্মার প্রভাব পড়তে পারে। ভূত বা জীন ভর করতে পারে এরকম মনে করা হয় কারণ দুষ্ট আত্মাদের বুকের দুধ এবং দূষিত রক্তের প্রতি লোভ থাকে। তাই সব রকমের বিপদ এড়াবার জন্য প্রসবকারিণী মহিলা যখন বাইরে বের হন তখন চুল বেঁধে রাখে এবং চাবির গোছা বা লোহার টুকরো সাথে রাখে। আঁতুড়ঘরে পুনরায় প্রবেশের আগে অগ্নি পাত্রের চারিদিকে ঘুরে নিয়ে হাত-পা গরম করে নেয় যাতে কোন ঋণাত্মক শক্তি যদি বা তার সাথে এসে থাকে তা কেটে যায়। মুসলমানদের ক্ষেত্রে মা সপ্তম দিবসে শুদ্ধ বস্ত্র পরে স্নানের পর এবং তাকে পাঁচ বা সাত পদের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয় এবং আঁতুড়ঘর ত্যাগ করে সে দৈনন্দিন জীবনে প্রবেশ করতে পারে।
প্রসব পরবর্তী আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি, মা ও শিশুর কোমল যত্নে সাহায্য করবে এই বিশেষ পণ্যগুলি।

Baby Wellness Kit | Skincare Gift Set for Newborns




Pregnancy Massage Oil + Coconut Oil - 200 ml each




Baby Lotion (100 ml) + Baby Soap (75 gm)
Made Safe Australia Certified | Dermatologically Tested | Long Lasting 24 Hours Moisturization| Soothes Dryness



This content is for informational purposes only and should not replace professional medical advice. Consult with a physician or other health care professional if you have any concerns or questions about your health. If you rely on the information provided here, you do so solely at your own risk.

Mylo wins Forbes D2C Disruptor award

Mylo wins The Economic Times Promising Brands 2022
Baby Carrier | Baby Soap | Baby Wipes | Stretch Marks Cream | Baby Cream | Baby Shampoo | Baby Massage Oil | Baby Hair Oil | Stretch Marks Oil | Baby Body Wash | Baby Powder | Baby Lotion | Diaper Rash Cream | Newborn Diapers | Teether | Baby Kajal | Baby Diapers Pants | Cloth Diapers | Laundry Detergent | Lactation Granules |