
উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা কথাটা শুনলেই কেমন যেন ভয় লাগে, তবে এটার কারণ, সতর্কীকরণ লক্ষণ, ধরণ এবং কার্যকরী ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে বিস্তারিত ধারণা থাকলে এটার সাথে মোকাবিলা করতে সাহায্য হয়।
লোকেরা বলে গর্ভাবস্থা হলো একজন মহিলার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। এটি কেবলমাত্র একজন মহিলার শরীরে শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে আসে না, এটি তাঁকে মানসিকভাবেও উন্নত করে তোলে। এই 9 মাসের যাত্রায় প্রায়ই তাঁকে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় - তা সে শারীরিক বা মানসিক যাই হোক না কেন। কারো কারো গর্ভাবস্থার সময় খুব সহজে, সুন্দরভাবে কেটে যায় এবং এটাকে মিষ্টি বলে মনে হয়, আবার কারো কারো গর্ভাবস্থা সম্ভবত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
যে গর্ভাবস্থা মা, অনাগত (এখনো জন্মায় নি এমন) শিশু অথবা উভয়ের জন্য বিপজ্জনক হয়, তা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা হিসেবে পরিচিত। এই ধরনের গর্ভাবস্থায় সম্পূর্ণ গর্ভাবস্থার সময়ে হবু মাকে চিকিৎসার অধীনে এবং ডাক্তারের পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকতে হয়।
তবে, এর মানে এই নয় যে সমস্ত উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থাতেই শিশু বা মায়েদের সমস্যা হতে পারে অথবা শিশুর জন্মের পরবর্তী সময়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা বলতে সেই গর্ভাবস্থাকে বোঝানো হয় যেখানে গর্ভবতী মা ও শিশুর বিভিন্ন জটিলতার কারণে উচ্চ ঝুঁকি থাকে এবং এই গর্ভাবস্থায় মা ও শিশু কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে।
লোকেরা প্রায়ই জিজ্ঞাসা করেন যে আইভিএফ (IVF) গর্ভাবস্থা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কিনা। এটি নিশ্চিতভাবে একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা এবং এইক্ষেত্রে মায়ের ভালো ডাক্তারি পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন আছে।
উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার অনেক কারণ রয়েছে এবং সেগুলিকে বোঝা অত্যন্ত আবশ্যক৷ এর মধ্যে রয়েছে-
গর্ভাবস্থা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য বয়স হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যে মহিলারা 35 বছর বয়সে প্রথমবার গর্ভবতী হন তাদের উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা বা হাই-রিস্ক প্রেগনেন্সি আইসিডি (ICD) 10 অনুসারে, 12-55 বছর বয়সী মহিলারা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার আওতায় পড়েন এবং তাঁদের আরো বিভিন্ন জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
একজন গর্ভবতী মহিলার উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা হলে সেটা তাঁর জন্য খুব বিরক্তিকর হতে পারে। কারণ, এর ফলে তাঁকে বেশ কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হতে পারে। এই পরিস্থিতিকে আরো ভালভাবে পরিচালনা করার জন্য এর সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে গর্ভফুল বা প্ল্যাসেন্টা জরায়ুর নিচের দিকে থাকে বা জরায়ুর মুখ ঢেকে রাখে। এরফলে, প্রসবের সময় অত্যধিক রক্তপাতের সম্ভাবনা থাকে। এই স্বাস্থ্যগত অবস্থাটিকে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বলে মনে করা হয়। এই অবস্থায় দ্বিতীয় বা তৃতীয় ত্রৈমাসিকের সময় রক্তপাত হতে পারে এবং ডাক্তারেরা সেই গর্ভাবস্থাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। কখনো কখনো গর্ভবতী মহিলাদের ঝুঁকির হার কমানোর জন্য সম্পূর্ণ বেড রেস্টের (বেশিরভাগ সময় বিছানায় শুয়ে বিশ্রাম করা) পরামর্শ দেওয়া হয়।
সাধারণ পরিস্থিতিতে, একজন গর্ভবতী মহিলা 37 সপ্তাহ ধরে গর্ভকালীন অবস্থায় থাকেন এবং তারপরে যে কোনো সময় তিনি সন্তান প্রসব করেন। গর্ভধারণের 37 সপ্তাহ পরে জন্ম হলে শিশুটিকে পূর্ণ-মেয়াদী শিশু (ফুল-টার্ম বেবি) বলা হয়। কিন্তু গর্ভাবস্থার 37তম সপ্তাহের আগে যদি কোনো গর্ভবতী মহিলা সংকোচন অনুভব করেন, তবে এটিকে অকাল প্রসব (প্রিমেচিউর লেবার) বলা হয়। এটা অকাল প্রসবের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে, গর্ভে যমজ সন্তান থাকলে, জরায়ুর মুখের অস্বাভাবিকতা বা অতিরিক্ত মানসিক চাপের থেকে হতে পারে। অকাল প্রসবের একটি বিশিষ্ট লক্ষণ হল রক্তাক্ত বা জলযুক্ত স্রাব এবং পেটের বিভিন্ন অংশে বারবার ব্যথা হওয়া।
কখনো কখনো গর্ভধারণের আগে গর্ভবতী মায়ের ডায়াবেটিস থাকে না কিন্তু গর্ভকালীন সময়ে তাঁর ডায়াবেটিস হয়ে যায়, কারণ গর্ভাবস্থায় যে সব হরমোন নির্গত হয় সেগুলোর প্রতিক্রিয়ার ফলে অগ্ন্যাশয় (প্যানক্রিয়াস) পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, যার ফলে রক্তে শর্করার (সুগার) মাত্রা বেশি হয়ে যায়। তবে সাধারণত প্রসবের পরে এই ডায়াবেটিসের মাত্রা অনেক কমে যায় বা থাকেই না। তবে, সম্পূর্ণ গর্ভাকালীন সময়ে সমস্ত বিষয়গুলোকে নিরীক্ষণ করা দরকার এবং ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, জল খাওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি ও দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলির দিকে বিশেষভাবে নজর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এইক্ষেত্রে ফাইবার-সমৃদ্ধ এবং কম চিনিযুক্ত খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কখনো কখনো গর্ভবতী মহিলার প্রস্রাবে বেশি প্রোটিন তৈরি হওয়ার ফলে এবং রক্তচাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকার ফলে গর্ভাবস্থা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। প্রস্রাবে প্রোটিন থাকা বিপজ্জনক হতে পারে কারণ এরফলে গর্ভবতী মায়ের রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে বা এটি তাঁর লিভার ও কিডনিকে প্রভাবিত করতে পারে। এইক্ষেত্রে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের (গাইনোকোলজিস্ট) পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং নিয়মিত রক্তচাপের মাত্রার উপর নজর রাখা উচিত।
কখনো কখনো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার লক্ষণগুলিকে সরাসরি দেখা যায় না, তবে এটা খুব বিপজ্জনক হতে পারে। এক্ষেত্রে শারীরিক পরিবর্তন এবং শিশুর গতিবিধির উপর নজর রাখা খুব প্রয়োজনীয়।
অ্যারিয়াস' গাইড টু হাই-রিস্ক প্রেগনেন্সি অ্যান্ড ডেলিভারি (5ম সংস্করণ) বইটি গর্ভবতী মায়েদের জন্য একটি তথ্যপূর্ণ বই।
উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার কয়েকটি সাধারণ সতর্কীকরণ লক্ষণ হলো:
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, আতঙ্কিত হবেন না!
উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা মানে এই নয় যে সবসময়ই মা এবং শিশুর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থাকবে অথবা শিশুর অবশ্যই জন্মগত কোনো অক্ষমতা থাকবে। তবে, কারোর গর্ভাবস্থাকে যদি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা বলে মনে করা হয়, সেক্ষেত্রে এটির জন্য তাঁকে নিয়মিত মেডিকেল চেক-আপ, কোনো অসঙ্গতি সনাক্তকরণের জন্য স্ক্রীনিং ও শারীরিক লক্ষণগুলিকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গর্ভবতী মায়ের আরামে থাকার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখতে হবে এবং তাঁকে সবকিছুতে সহায়তা করবে এমন পরিবার প্রয়োজন হবে।
তবে, নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলি কার্যকরভাবে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থাকে পরিচালনা করতে সাহায্য করবে:
গর্ভাবস্থা একটি নতুন জীবনের সূচনা, নতুন আশা, এবং হবু মা-বাবার জন্য নতুন আরম্ভকে চিহ্নিত করে। গর্ভাবস্থার 9 মাসের এই যাত্রায় একজন মা অনেক ধরণের আবেগ অনুভব করেন এবং আসন্ন মাতৃত্বের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন। একই সময়ে, এই 9 মাস একজন মায়ের জন্য খুব কঠিন এবং বেশ মানসিক চাপের হতে পারে যদি তাঁর গর্ভাবস্থাকে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উপরে উল্লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী, গর্ভবতীর উপসর্গগুলির দিকে নজর রাখলে, তাঁর দৈনন্দিন কাজকর্মের উপর নজর রাখলে এবং একজন গাইনোকোলজিস্টের সাহায্যে সম্পূর্ণ গর্ভাবস্থাকে পরিচালনা করলে তা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার দ্বারা সৃষ্ট কঠিন পরিস্থিতিগুলোকে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।
তবে, এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইতিবাচক বা পজিটিভ চিন্তা করা এবং মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপন করা।
মা, আপনার মাতৃত্ব আনন্দময় হয়ে উঠুক!
What is high risk pregnancy: awareness, symptoms, prevention in Bengali, High risk pregnancy reason in Bengali, High risk pregnancy age in Bengali, High risk pregnancy types in Bengali, High risk pregnancy danger signs in Bengali, High risk pregnancy treatment in Bengali
Yes
No














Influenza and boostrix injection kisiko laga hai kya 8 month pregnancy me and q lagta hai ye plz reply me
Hai.... My last period was in feb 24. I tested in 40 th day morning 3:30 .. That is faint line .. I conculed mylo thz app also.... And I asked tha dr wait for 3 to 5 days ... Im also waiting ... Then I test today 4:15 test is sooooo faint ... And I feel in ma body no pregnancy symptoms. What can I do .
Baby kicks KB Marta hai Plz tell mi
PCOD kya hota hai
How to detect pcos
Your body needs extra nutrition this trimester - these can help.





This content is for informational purposes only and should not replace professional medical advice. Consult with a physician or other health care professional if you have any concerns or questions about your health. If you rely on the information provided here, you do so solely at your own risk.

Mylo wins Forbes D2C Disruptor award

Mylo wins The Economic Times Promising Brands 2022
Baby Carrier | Baby Soap | Baby Wipes | Stretch Marks Cream | Baby Cream | Baby Shampoo | Baby Massage Oil | Baby Hair Oil | Stretch Marks Oil | Baby Body Wash | Baby Powder | Baby Lotion | Diaper Rash Cream | Newborn Diapers | Teether | Baby Kajal | Baby Diapers Pants | Cloth Diapers | Laundry Detergent | Lactation Granules |